আমাদের সম্পর্কে

‘৭১-এর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর এর নাম বদলে বাংলাদেশ বেতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা থেকে সম্প্রচার শুরু করে বাংলাদেশ বেতার যা এতকাল রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীর মনোবলকে উদ্দীপ্ত করতে “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিল। যুদ্ধের সময়ে প্রতিদিন মানুষ অধীর আগ্রহে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য অপেক্ষা করত। “জয় বাংলা, বাংলার জয়” গানটি এ বেতার কেন্দ্রের সূচনা সঙ্গীত হিসাবে প্রচারিত হতো।

 

‘১৩-এর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে যখন বাংলার তরুন সমাজ শাহবাগের মাঠে আন্দোলনরত, ঠিক তখন ইংল্যান্ড-এ বসবাসরত একদল তরুনের হাত ধরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পুনরুত্থান ঘটে ২০১৩ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারী থেকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী দেশ-বিদেশের সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিলো মুখ্য উদ্দেশ্য। ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যেমন উদ্দেশ্য ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেম প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম, ঠিক একই উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে নতুন করে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ডট কমের। নতুন এ পথযাত্রায় ছিলো নানা রকম বাধা-বিপত্তি, সমালোচনা, শত্রুদের আঘাত। কিন্তু সকল বিপত্তি উপেক্ষা করেও চলতে থাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার।

প্রতিষ্ঠা লগ্নের কিছু কথা…

হবে হবে করে শুরু হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য। ন্যায্য বিচার না হওয়ায় বাংলার তরুন সমাজ নেমে আসে শাহবাগ চত্বরে। শুরু হয় আন্দোলন, স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর। দিন-রাত, খাওয়া-ঘুম সব ভুলে অবিরাম চলতে থাকে আন্দোলন। শুরু হয় গনজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম।
দেশের তরুন সমাজ যখন আন্দোলনরত, ঠিক তখনই এক অপচক্র প্রচার করা শুরু করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ তথ্য। দেশ তথা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি।
ঠিক সেই সময়েই, দেশপ্রেম, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা, ন্যায় বিচারের দাবী ও সঠিক সময়ে সঠিক সংবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে শুরু হয় নতুন প্রজন্মের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-এর পথচলা। শাহবাগের সেই আন্দোলন-এর প্রেরণা ও সঠিক সংবাদ বিশ্বের সকল বাংলাদেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিলো এর মূল লক্ষ্য। একদল তরুণ তরুনী ঝাপিয়ে পড়ে সরাসরি সম্প্রচার সংক্রান্ত কার্যক্রমে। রাত-দিন এক করে চলতে থাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ২৪ ঘন্টা সপ্রচার। শাহবাগ চত্বরের জ্বালাময়ী স্লোগানগুলি পৌঁছে দেয় বিশ্বের প্রতিটি কোনায়। স্রোতাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় অভূতপূর্ব সাড়া। ২৪ ঘন্টা প্রচার হতে থাকে আন্দোলনের সংবাদ, ‘৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত প্রেরণাময়ী গানগুলোর পুনঃপ্রচার। সক্ষম হয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে লুকিয়ে থাকা দেশপ্রেমের পুনরুত্থান করতে।
এই পথযাত্রায় শুরু থেকেই ছিলো নানা বাধা-বিপত্তি, কিছু ছদ্মবেশী মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা, হ্যাকারদের নিয়মিত আক্রমণ। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি এই যাত্রা। ২৪ ঘন্টা সম্প্রচারিত হতে থাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম। ধন্যবাদ জানাই সেই সকল সহযাত্রীদের, যারা নিরলস পরিশ্রম করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে পৌঁছে দিয়েছেন বাংলাদেশীদের হৃদয়ে। এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সকল স্রোতা বন্ধুদের, যারা প্রতিনিয়ত উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়েছেন। – প্রতিষ্ঠাতা

নেপথ্যে যারা…

প্রতিষ্ঠাতাঃ পিনাকী দেব অপু (ইংল্যান্ড)
সহ-প্রতিষ্ঠাতাঃ জেনেট তৃণা রিয়ানা(ইংল্যান্ড)
প্রচার সম্পাদকঃ ওয়াহিদ আহমেদ (বাংলাদেশ)
বার্তা সম্পাদকঃ শারমিন জান্নাত (ইংল্যান্ড)
বেস স্টুডিওঃ ইংল্যান্ড
প্রচার মাধ্যমঃ ইন্টারনেট (অনলাইন)
ওয়েবসাইট নির্মাতাঃ পিনাকী দেব অপু (ইংল্যান্ড)