গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসাবে প্রচার – জামাতিদের ভণ্ডামীর একটা নমুনা মাত্র

যে কিনা বাঙ্গালী জাতি হিসাবে আমাদের জাতিকে মানতে নারাজ – সে ভাষার জন্যে সংগ্রাম করেছে, বিষযটা কেমন যেন পরষ্পর বিরোধী হয়ে গেল না?

gg ajom

আসলেই তাই। সেইদিন যখন স্বারকলিপি পাঠ করা ছাড়া আর কি কোন পথ খোলা ছিলো গোলামের জন্যে। যদি সে স্বারকলিপি পাঠ করতে অস্বীকার করতো তা হলে সাধারন ছাত্রদের হাতে কি পরিমান নাজেহাল হতো সেইটা উপলদ্ধি করেই সে মঞ্চে উঠেছিলে। মুসলিম লীগের সমর্থক আর উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে মনে প্রানে বিশ্বাস করতো গোলাম আজম। তাইতো সেইদিন স্বারকলিপি পাঠের পর তাকে পুরো ভাষা আন্দোলনে দেখা যায়নি।

এই বিষয়ে ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন বলেছেন, জামাতের সাবেক আমীর গোলাম আযম ভাষা সৈনিক ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন উর্দুর পক্ষে। আবদুল মতিন বলেন, পাকিস্তানের একজন রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়েছেন, ভাষার দাবি সম্বলিত মানপত্র পাঠ করেছেন বলে অনেকে মনে করেন গোলাম আযম ভাষা সৈনিক। আবদুল মতিনের মতে, সে বক্তৃতা গোলাম আযম নিজের ইচ্ছায় বাংলাতে দেননি, ডাকসু নেতা হিসেবে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠের যে সিদ্ধান্ত ছিল তা বাস্তবায়ন করেছেন মাত্র। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আরে ভাই যিনি পাকিস্তানের পক্ষে থাকেন, তিনি কিভাবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে থাকেন? তিনি কিভাবে উর্দুর বিরোধিতা করেন? তাকে যারা ভাষা সৈনিক বলেন, তারা এটা ভাবলেই পারেন।

তাই তাকে ভাষা আন্দোলনের দলত্যাগী বেঈমান হিসাবে দেখা গেছে পরবর্তীতে।

বটতলায় বাংলা ভাষার দাবীতে স্বারকলিপি পাঠ করার জন্যে যে কষ্ট পেয়েছে গোলাম আজম – তা পরবর্তীতে তার বহু বত্তৃতা বিবৃতি থেকে জানা যায়। দৈনিক পাকিস্থানের ১৯শে জুন প্রকাশিত সংখ্যায় জানা দেখা যায় – (তখনো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়নি)

“পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে ১৮ই জুন (১৯৭০) এক সংবর্ধনা সভায় জামায়াত নেতা গোলাম আযম বলেন, উর্দু পাক ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারন ভাষা। তিনি বলেন, ৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনিও তাতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তা ভুল হয়েছিল।”

তখনকার পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) বাংলা ভাষাকে সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ের পরও যে লোক উর্দুকে তার ভাষা মনে করে – তাকে ভাষা সৈনিক হিসাবে প্রচার সত্যই কৌতুকের জন্ম দেয়।

যারা ধর্ম নিয়ে ভন্ডামী করে সেই জামাতিদের পক্ষে সবাই সম্ভব – কারন জামায়াত একটা ভন্ড দল।

(সূত্র – বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস – ড. মোহাম্মদ হাননান পৃষ্ঠা ৩৯৯)