দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেইল্ল্যা রাজাকারের মানবতা বিরোধী অপরাধ সমূহ

sayedee

এক নজরে দেখে নেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যে তৎকালীন সময়ে দেইল্ল্যা রাজাকার নামে পরিচিত ছিলো, তার মানবতা বিরোধী অপরাধ সমূহঃ

অভিযোগ ১ঃ– পিরোজপুর সদর এলাকার মধ্য মাসিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে পরিকল্পিতভাবে পাকবাহিনীকে সহায়তা করে আগে থেকে জড়ো করা ২০ জন নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যায় সাহায্য করে।

অভিযোগ ২ঃ– মাসিমপুর হিন্দুপাড়ায় হিন্দু বাড়িগুলোতে লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। অসহায় মানুষ পালাতে শুরু করলে সাঈদী ও তার দলের সদস্যরা পালাতে বাঁধা দিয়ে গুলিবর্ষণ করলে ১৩ জন সেখানে শহীদ হন।

অভিযোগ ৩ঃ– সাঈদী নিজে মাসিমপুর হিন্দুপাড়ায় মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী ও সুরেশ চন্দ্র মণ্ডলের বাড়ি লুট করে  আগুন ধরিয়ে দেন।

অভিযোগ ৪ঃ– ধোপাবাড়ির সামনে এবং পিরোজপুর সদর পুলিশ স্টেশনের এলজিইডি ভবনের পেছনের হিন্দুপাড়া ঘেরাও করে গুলি বর্ষণ করে এবং সেখানে দেবেন্দ্রনাথ মণ্ডল, জগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, পুলিন বিহারী ও মুকুন্দ বালা মারা যান।

অভিযোগ ৫ঃ–  ১৯৭১ এ  পিরোজপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমান, পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত এসডিও আবদুর রাজ্জাককে কর্মস্থল থেকে ধরে বন্দি করা হয়। সাঈদীর উপস্থিত থেকে এই  ৩ সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি করে লাশ বলেশ্বর নদে ফেলে দেয়।

অভিযোগ ৬ঃ– সাঈদীর নেতৃত্বাধীন শান্তি কমিটির একটি দল পাকিস্তানি দোসর সেনাদেরকে নিয়ে পারেরহাট বাজারের আওয়ামী লীগ, হিন্দু সম্প্রদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বাড়িঘর ও দোকান চিনিয়ে দেয়। আর পাকি সেনারা এসব দোকান ও বাড়িতে লুটপাট করে।

অভিযোগ ৭ঃ– সাঈদী পাকিস্তানি দোসর সেনাদের সাথে নিয়ে দবাদুরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে শহীদুল ইসলাম সেলিমের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেখানে নুরুল ইসলাম খানকে আওয়ামী লীগের আর শহীদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং পাকিস্তানি সেনাদের হাতে সোপর্দ করেন। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে চলে যায়।

অভিযোগ ৮ঃ– সাঈদী ও তার দলবল মিলে চিথোলিয়া গ্রামের মানিক পসারির গ্রাম লুট করে। এখানে পাঁচটি ঘরে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মানিক পসারির ভাই ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে।

অভিযোগ ৯ঃ– সাঈদী ও তার সশস্ত্র দলবল ইন্দুরকানি পুলিশ স্টেশনের নলবুনিয়া গ্রামের আবদুল হালিম বাবুলের বাড়িতে লুটপাট করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযোগ ১০ঃ– সাঈদীর সশস্ত্র  সহযোগী উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার ২৫টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাঈদীর মদদে বিসা বালী নামের একজনকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ ১১ঃ–  টেংরাখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিয়ে যান সাঈদী। সেই স্থানে তার বড় ভাই আবদুল মজিদ হাওলাদারকে ধরে নির্যাতন করে। তারপর সাঈদী নগদ টাকা লুট ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে যান। পরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযোগ ১২ঃ– সাঈদী ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র হানাদারদল পারেরহাট বাজারের ১৪ জন হিন্দুকে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে নিয়ে যায়। পরে তাদের সবাইকে গুলি করে  শহীদদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

অভিযোগ ১৩ঃ– মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার মাস দুই-তিন পর সাঈদী পাকিস্তানি হানাদার দল নলবুনিয়া গ্রামের আজহার আলীর বাড়িতে যায়। সেখানে আজহার আলী ও তার ছেলে সাহেব আলীকে ধরে নির্যাতন করা হয়। সাহেব আলীকে পিরোজপুরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

অভিযোগ ১৪ঃ– সাঈদী  ৫০-৬০ জনের একটি রাজাকার বাহিনী সাথে নিয়ে হোগলাবুনিয়ার হিন্দুপাড়ায় যায়। মধুসূদন ঘরামীর স্ত্রী শেফালী ঘরামীকে ধর্ষণ করে। পরে এই হিন্দুপাড়ার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।

অভিযোগ ১৫ঃ– সাঈদী ১৫-২০ জনের রাজাকার দল সাথে  নিয়ে হোগলাবুনিয়া গ্রামের ১০ জন হিন্দু নাগরিককে ধরে। পাকিস্তানি  হানাদার বাহিনীর সেনারা তাদের সবাইকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

অভিযোগ ১৬ঃ– সাঈদী ১০-১২ জনের রাজাকার দল সাথে নিয়ে পারেরহাট বন্দরের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি থেকে তার তিন বোন মহামায়া, অন্ন রানী ও কমলা রানীকে ধরে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ ১৭ঃ– সাঈদী তার রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা পারেরহাটের বিপদ সাহার সাহার মেয়ে ভানু সাহাকে তার বাড়িতে আটকে নিয়মিত ধর্ষণ করে।

অভিযোগ ১৮ঃ– ভাগীরথী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেনা ক্যাম্পে কাজ করতেন। সাঈদী এক দিন খবর দেন, ভাগীরথী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত নানা খবরা-খবর দেন। পাকিস্তানি সেনারা তাকে হত্যা করে লাশ বলেশ্বর নদে ফেলে দেয়।

অভিযোগ ১৯ঃ– সাঈদী প্রভাব খাটিয়ে পারেরহাটসহ অন্য গ্রামের ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে। তাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো।

অভিযোগ ২০ঃ– সাঈদী ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ইন্দুরকানি গ্রামের তালুকদার বাড়িতে আক্রমণ চালায়। ৮৫ জন ব্যক্তিকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মালামাল কেড়ে নেওয়া হয়। ১০-১২ জন বাদ দিয়ে বাকিদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।