দেশের প্রথম সমকামী ম্যাগাজিনঃ রূপবান

“সমকামী? তাও আবার আমাদের বাংলাদেশে? এ কি করে সম্ভব?”

আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ যখন বাংলাদেশে সমকামী মানুষের অস্তিত্বের কথা শুনেন, তখনই এ ধরনের মন্তব্য করে বসেন। জেনেও না জানার ভান করেই সকলে এই একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে সব সময় এক ধরনের বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেন।

আমাদের বাংলাদেশ একটি মুসলমান প্রধান দেশ, তবুও আমরা প্রত্যাশা করি সকল ধরনের নাগরিক পাবে সমান অধিকার। কিন্তু সমকামীদের বেলায় কিন্তু তা ঠিক উল্টো। তাদের স্বীকৃতি তো দেয়া হয়ই না, বরং তাদেরকে নানাভাবে নিগ্রহের শিকার হয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, তারাও আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। তারাও শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকে ঠিক আমাদেরই মতো। কিন্তু পার্থক্য একটাই। আমাদের থেকে তাদের যৌন আকর্ষণ ভিন্ন। সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি “স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের যৌন প্রবণতা”। বিজ্ঞানীরা বলেন জিন গত, হরমোনগত কিংবা পরিবেশগত কারনে একজন মানুষ যৌন অভিমুখী হয়ে থাকেন।

সমকামী যৌন আচরণকে অপ্রাকৃতিক মনে হলেও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা জায় যে, সমকামিতা মানব যৌনতার একটি সাধারন ও প্রাকৃতিক প্রকার মাত্র, এবং অন্য কোন প্রভাবকের অস্তিত্ব ছাড়া এটি মনের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেশের মানুষ ধর্মীয় গোড়া মনমানসিকতা পোষণ করে থাকেন। তাঁরা কখনোই সমকামিতাকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেন নি। এর জন্য অবশ্য আমাদের রয়েছে সচেতনতার অভাব।

আমাদের সমাজে সমকামিতার জন্য যথেষ্ট সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সমকামী ম্যাগাজিন “রূপবান”। অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ দেখে আমি সত্যি অবাক হয়েছি। শুভকামনা করছি ভবিষ্যতে প্রকাশিত সকল সংখ্যার জন্য।

ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বের হয়ে মানবিকতার দিক থেকে হলেও এলজিবিটি কমিউনিটির সকলকে তাদের মৌলিক অধিকার দেওয়া হোক এই প্রত্যাশাই করি। অনেক দূর এগিয়ে যাক এই রূপবান। পরিবর্তন আমাদেরই করতে হবে। সবাইকে অনুরোধ করবো, ম্যাগাজিনটি একবার করে হলেও পড়বেন এবং সমাজের নির্যাতিত, নিপীড়িত এই অংশকে ভালো ভাবে বাঁচতে সাহায্য করুন। নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন, পরিবর্তন অবশ্যই হবে। ধন্যবাদ।