‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত’

osmanআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকালে বিএনপি নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এক প্রশ্নের জবাবে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান।
তবে এর আগে সকালে ধানমন্ডিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল হান্নান খান ও তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক মিয়া।
আবদুল হান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৭১ সালে ওসমান ফারুক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককতা করতেন। ওই সময় স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে তাঁর ওঠাবসার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করিনি।’

হান্নান খান আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে একটি কাগজ এসেছে। যেখানে কিছু শিক্ষকের নাম পাওয়া গেছে। তাঁর মধ্যে ওসমান ফারুকের নামও রয়েছে। তাঁরা স্বাধীনতাবিরোধী। কিন্তু কী কী অপরাধ করেছেন, তা উল্লেখ নেই। কিন্তু তাঁরা কোথায় কোথায় যেতেন, কার সঙ্গে ওঠাবসা করতেন এবং এক ব্রিগেডিয়ারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতেন ইত্যাদি জিনিস সেখানে উল্লেখ রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ১১ জন শিক্ষক তখন পাকিস্তান আর্মিকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ওসমান ফারুকের নাম রয়েছে। তিনি তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।
তবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে ওসমান ফারুক আজ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি টেলিভিশনের সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তিনি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত ও বিস্মিত হয়েছেন। এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপর দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের আটজন এবং পটুয়াখালীর পাঁচজনসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এঁদের মধ্যে ময়মনসিংহের চারজন এবং পটুয়াখালীর পাঁচজন কারাগারে আছেন। বাকি চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) খবরে বলা হয়েছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আজ তদন্তকারী সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ১১ জনের তালিকা নিয়ে কাজ করছে তদন্ত সংস্থা। এই ১১ জনের অধিকাংশই সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা ছিলেন। ওসমান ফারুক তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ইকোনমি অনুষদের রিডার ছিলেন। ১১ জনের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে ময়মনসিংহ-৭ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের সময় যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছিল, তাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর টর্চার সেলের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।