গুপ্ত হত্যা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং জনসাধারণের প্রতি আহ্বান

এই গুপ্ত হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণকে যা বললেন সংবাদ সম্মেলনে আমি প্রচণ্ড বিরক্ত এবং মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রী এমন অবান্তর কথা বলেন সত্যি খুব অবাক লাগে যদি খুনিদের তথ্য আপনার কাছে থেকেই থাকে তাহলে বিচারের আওতায় এদেরকে আনছেন না কেন? আর যদি ভয় পান যে খুনিরা পালিয়ে যাবে তাহলে পালানোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ করছেন না কেন? নাকি ভুলে গেলের আপনি প্রধানমন্ত্রী? প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে তাই তো জানতাম, নাকি ভুল জানতাম!

এই বিরক্ত থেকেই প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে লিখলাম-

প্রধানমন্ত্রীঃ গুপ্তহত্যা বন্ধে চেতনা জাগাতে হবে

আমরা সাধারণ জনগনঃ আসেন আমরা আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন শান্তিতে ঘুমাতে। সুতরাং আসুন আমরা শান্তিতে ঘুমাব এবং অলসতা ছেড়ে চেতনা জাগ্রত করব।:D

প্রধানমন্ত্রীঃ বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে  নাশকতা ঠেকাতে মানুষ যেভা্বে এগিয়ে এসেছেন, সেইভাবে সাম্প্রতিক একের পর এক গুপ্তহত্যা বন্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন  হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা সাধারণ জনগনঃ দেশের প্রশাসন এবং ছাত্রলীগ/ যুবলীগ ভাই ও বোনেরা আপনারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন করাতে অতিসত্বর মাঠে নামুন। সাধারণ মানুষদের যান মালের নিরাপত্তার জন্য অতন্ত প্রহরী হয়ে সেবাদান করুন। ভয় নেই আমরা সাধারণ জনগন আপনাদের পাশে আছি :D। প্রধান মন্ত্রী আহ্বান করেছেন সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন  সেই সাথে সাধারণ মানুষকে দায়িত্ব পালনে উৎসাহী করুন। 😀

প্রধানমন্ত্রীঃ “যারা সত্যিকারের ধর্মে বিশ্বাসী, সবাইকে আহ্বান জানাব, তাদের পরিবারের কোনো সদস্য জঙ্গিবাদের পথে যাচ্ছে কি না, সেটা দেখাও তাদের কর্তব্য। মানুষের মধ্যে এই চেতনাটা জাগ্রত করতে হবে।”

আমরা সাধারণ জনগনঃ আমরা অবশ্যই মাদ্রাসা এবং ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে খবর নেব এবং দেখব আমাদের কোন সন্তান, ভাই , বোন,আত্মীয়, বন্ধু- বান্ধব জঙ্গি হয়ে গেছে কিনা। যদি যায় তাহলে আমরা অবশ্যই তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করব এবং তাকে/ তার বর্তমান আস্তানার সন্ধান আইন শৃঙ্খলা বাহিনির কাছে হস্তান্তর করব। এর মধ্যে কেউ কেউ যদি দেশ ত্যাগ করে বা সিরিয়াতে গিয়ে আই এস জঙ্গি বাহিনীতে যোগদান করে, সেই দায় ভার উক্ত পরিবার অথবা পরিজনরা নিতে অপারগ।:D

প্রধান মন্ত্রিঃ বাংলাদেশের ‘ভামূর্তি নষ্ট করার জন্য, অগ্রগতি ব্যাহত করার জন্যই’ একের পর এক গুপ্তহত্যা ঘটানো হচ্ছে।

“বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, যারা তা চায়নি, তাদেরই একটা নীল নকশা এটা। সেই নীল নকশা তারা কায়েম করার চেষ্টা করে যাচ্ছ।”এই গুপ্তহত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে, তারা কোথায় বসে পরিকল্পনা করে- সেই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরবরাহ করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

 আমরা সাধারণ জনগনঃ মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি নিশ্চয়ই দেশের প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগের কর্তব্যহীনতায় মনে বেশ কষ্ট পেয়েছেন। আমরা সাধারণ জনগন অবশ্যই একেকজন আজকে থেকে সি আই ডি দের মতো তুখোড় হওয়ার চেষ্টা করব এবং পুলিশ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা বাহিনী, র‍্যাব যা পারেনি আমরা সেই অসাধ্যকে সাধন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। এতদিন পর আপনি সাধারণ জনগণের উপর ভরসা করেছেন, আমরা কিছুতেই এই ভরসা নষ্ট হতে দেব না। 😀

কি! সাধারণ জনগন, আপনারা প্রধান মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেবেন তো? আপনারা রেডি তো?  আসুন নেমে পরি দায়িত্ব পালনে। 😀

প্রধান মন্ত্রীঃ দেশের মানুষ সচেতন হলে গুপ্তহত্যাকারীরা তাদের সেই ‘নীল নকশা’ আর বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

আমরা সাধারণ জনগনঃ আসুন  আমরা ‘দশের লাঠি একের বোঝা’ না করে আমরা ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’ এর মতাদর্শে কাজ শুরু করে দেই।:D