কেন তারা বেছে বেছে অমুসলিম হত্যা করলো?

যে ধর্ম গ্রন্থে বলা হয় তোমরা মানুষ খুন করো, কিভাবে করতে হয় তার বর্ণনাও যদি দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সেই ধর্মকে কি করে শান্তির ধর্ম বলি? আপনারা যারা মুসলিম সম্প্রদায়ের কি করে আপনারা এই ধর্মকে শান্তির ধর্ম বলেন? মনে মনে এই জঙ্গি হামলায় যারা অংশ নিয়েছে এদের কে অনেকেই পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করে বাহ বাহ দিচ্ছেন। আপনারা কি মানুষ? পশু বললেও পশুদের অপমান করা হবে। আপনাদের ধর্ম কি শুধু লাশ ফেলতে জানে? কত লাশ চাই আপনাদের? এই লাশের কোন খোদা আপনাদের? এত লাশের ক্ষুধা কেন আপনাদের? খোদাকে এই লাশ উৎসর্গ করেন?এ ক্যামন খোদা আপনাদের? আপনাদের নবী (স)উনি নিজেই এর নির্দেশ দিয়েছেন? উনি নিজেই তো এই খুনের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাহলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হয় কিভাবে?

কেন গুলশানের ইসলামি জঙ্গীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে থাকা সত্বেও জবাই করে হত্যা করলো?
কেন তারা বেছে বেছে বেশির ভাগ অমুসলিম হত্যা করলো? অসহায় মানুষ গুলোকে বন্দী করে মেরে ফেলল কেন? কি স্বার্থ তাদের?

আগেও সালাউদ্দিনের ঘোড়া ফেইস বুক পেজ থেকে খুন কিভাবে করতে হবে মানুষ কে কি করে মারতে হবে এই সব জিনিস ভিডিও আকারে প্রকাশ করেছে। তখন সরকার কি করেছিল? অবাধে উন্মুক্ত ভাবে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিয়েছিল। কি দেয়নি?

ঘাড়ের উপর আঘাত করলে ও জবাই করলে এবং অমুসলিম হত্যা করলে যে সওয়াব বেশি সে ব্যাপারে কোরানে সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। বুকের পাটা আছে বলেই লিখছি। আমার উপর রাগ করবার আগে নিম্নলিখিত আয়াতগুলি কোরানের সাথে মিলিয়ে নিন, তারপর অস্বীকার করতে চাইলে করতে পারেন।যদি এই জঙ্গি বাদকে স্বীকৃতি দেন তাহলে আপনিও একজন জঙ্গি। ধর্ম রক্ষার নামে আপনিও একজন জঙ্গি অমানুষ। আপনি এই পৃথিবীর মানব সভ্যতার শত্রু।
আর যদি স্বীকার না করেন, শুধু মনে রাখবেন, আপনি কোরানকে অস্বীকার করতে যাচ্ছেন।

“যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।”
( সূরা ৮- আয়াত ১২)

“অত:পর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দানে মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অত:পর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ্ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।”
( সূরা ৪৭- আয়াত ৪ )

“আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুত: ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই কর। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।

এখন এ্যাপলজিস্ট মুসলিমরা বলেন, উপরোক্ত দ্বিতীয় এবং তৃতীয় আয়াত দুইটা যুদ্ধ পরিস্থিতে বিশেষ সময়ের জন্য লেখা হইছিলো। এইটা এই সময়ের জন্য প্রযোজ্য না।

আসলেই কি তাই?

এই যে ছোট ছোট ছেলেগুলিরে ব্রেইনওয়াস করা হইলো, তাদের যদি আমি বুঝাই, দুনিয়াতে এখন যুদ্ধপরিস্থিতি চলতেছে? ফিলিস্তিনে বা সিরিয়ায় যা হইতেছে তা ঠেকানোর জন্য ‘আমাদের’ যুদ্ধে নামতে হবে? তখন কি তারা উপরের আয়াতগুলিরে মাইনা নিবেন না?

( সূরা২- আয়াত ১৯১ )

“অত:পর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর । আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ্ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
( সূরা ৯- আয়াত ৫ )

“তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অত:পর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।
( সূরা ৪- আয়াত ৮৯ )

আপনি হয়তো মডারেট মুসলিম , আপনি আপনার লোকায়ত সংস্কৃতি দিয়া আপনার প্রাচীন ধর্মরে আপনার ইচ্ছামত কাটছাট কইরা নেন। তাতে অসুবিধা নাই, কারণ ধর্মের নিয়মই তাই। সেইকারণে আপনি মুসলিম হইয়াও গান গাইতে পারেন, লালনরে মাইনা নিতে পারেন, বিয়াতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করতে পারেন, মুসলিম হইয়াও পয়লা বৈশাখ উদযাপন করতে পারেন। আপনি হিন্দু বৌদ্ধদের সাথে মিশা চলতে পারেন, পূজায় ক্রিসমাসে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেন এবং দিনশেষে হিজাব কইরা নামাজও পড়তে পারেন। আপনার কাছে তাই ইসলামরে শান্তির ধর্মই লাগে। কিন্তু আপনার মত যারা এইসব জগাখিচুড়ি ‘মিশ্রণ’এ বিশ্বাসী না? তারা কি মানুষ না? তারা কি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি না?

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক্ আর জেনে রাখ, আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।”
( সূরা ৯- আয়াত ১২৩)

“আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।”
( সূরা ৬১- আয়াত ৪ )

“তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণক। বস্তুত: আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।”
( সূরা ২- আয়াত ২১৬ )

এইবার বলেন ইসলাম কি শান্তির ধর্ম? ইসলাম কি জঙ্গিবাদের ধর্ম নয়? ইসলাম কি মানব সভ্যতার জন্য একটা আতংক নয়? দয়া করে স্বীকার করেন। এই লাশের ক্ষুধা আর কত দিন চলবে? পরোক্ষ ভাবে এই জঙ্গিবাদ কে স্বীকৃতি দিয়ে আপনারা নিজেরাও ভয়ঙ্কর অপরাধীদের পরিনত হচ্ছেন। যে ধর্ম মানুষকে মারার নির্দেশ দেয়, যে ধর্ম লাশের পর লাশের স্তূপ বানায়, সে ধর্ম আর যাই হোক শান্তির ধর্ম নয়।